
স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লাবু চেয়ারম্যানের জমির উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ মেইটকা পর্যন্ত আরসিসি পাইপ ড্রেনসহ সড়ক নির্মাণকাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ১ কোটি ৬৭ লাখ ৫ হাজার ৫৪৫ টাকা ৭৫ পয়সা ব্যয়ে চলমান এই প্রকল্পে মেয়াদ উত্তীর্ণের তিন মাস পার হলেও কাজ শেষ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তার ওপর সড়ক ঢালাইয়ে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, সঠিক প্রাক্কলন না মানা এবং তড়িঘড়ি করে ফিনিশিং দেওয়ার ফলে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রকল্পে ৪৫০ মিটার আরসিসি পাইপ ড্রেন এবং ৩৪২ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে তিন মিটারের কাছাকাছি (কোথাও ৩.৪ মিটার, কোথাও ৩.২ মিটার) প্রস্থের আরসিসি সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় ‘রাবেয়া ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ১৫ মার্চ কাজটি শুরু হয়ে ১৫ মে’র মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর অতিরিক্ত তিন মাস অতিবাহিত হলেও নির্মাণকাজ এখনও অসম্পূর্ণ পড়ে রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন অংশে এখনই স্পষ্ট ফাটল ধরেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ঢালাইয়ে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করেছে। দুর্নীতির চিত্র ঢাকতে তড়িঘড়ি করে ওপরের আরসিসি ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া সড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না রেখে খাদ রেখে দেওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে সড়কের পাশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া সড়কের ঢালাই কোথাও মোটা কোথাও চিকন লক্ষ্য করা গেছে।
ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলী শেখ বলেন, কাজের মান খুব একটা ভালো হয়নি। এই রাস্তার কাজটি আরো ভালো করে করা উচিত ছিল। ঠিকাদার যেভাবে রাস্তার কাজ করছে টানা কয়েকদিন বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি ভেঙ্গে যাবে বলেন তিনি।
কাজের অনিয়ম ও নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাস্তার কাজটি দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা এলজিইডির সাভার উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল ইসলাম। ফাটলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিচিত্র যুক্তি দিয়ে জানান, “সড়কে অত্যন্ত উন্নত মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। রেডি মিক্স ঢালাইয়ে সিমেন্টের পরিমাণ বেশি দেওয়ার কারণেই মূলত উপরিভাগে এই ফাটল দেখা যাচ্ছে।” এছাড়া সড়কটিতে উন্নত মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কথা প্রসঙ্গে আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে কাজের কিছু অনিয়ম হয়েছিল পরে ওগুলো আমরা ঠিক করে দিয়েছি ওটা ধরার মতো কিছু নয়, উনিশ আর বিশ – এরকম। তবে প্রকৌশলীর এই দাবিকে পুরোপুরি অযৌক্তিক ও দায়সারা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ার বিষয়ে দায়িত্বরত উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, সময় মত কাজ শেষ না হলে পরে কাজের সময় বর্ধিত করা হয়।
ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয়েও জানতে চাইলে আশরাফুল ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে বলেন, ঠিকাদার খুবই ভালো মানুষ।
তবে এই কর্মকর্তার দেওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের মুঠোফোন নাম্বারে মঙ্গলবার দুপুরে একাধিকবার ফোন করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এসব বিষয়ে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাভার উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মিনারুল ইসলাম বলেন, শতভাগ সঠিক কোন কিছুই হয় না। কেউ বলতে পারবে না শতভাগ সঠিক কাজ করছে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন আগামীকাল (বুধবার) আমি নিজে সড়কটি পরিদর্শনে যাব।
Leave a Reply