স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা জেলার সাভার পৌর এলাকার রেডিও কলোনিস্থ লাব্বাইক ট্রান্সপোর্ট (প্রাঃ) লিঃ-এর চেকপয়েন্টে ঢুকে পরিবহনের কর্মী ও চালক-হেলপারদের মারধর, গালিগালাজ এবং বাস প্রতি চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঢাকা জেলা শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সাভার পৌর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: জসিম উদ্দিন মোল্লাসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগটি দায়ের করেন লাব্বাইক ট্রান্সপোর্ট (প্রাঃ) লিঃ-এর রুট সুপারভাইজার মোঃ রিয়াজ মোর্শেদ।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, সাভারের রেডিও কলোনিস্থ লাব্বাইক বাসের নির্ধারিত চেকপয়েন্টে শ্রমিক দল নেতা মো: জসিম উদ্দিন মোল্লার নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সন্ত্রাসী দল হঠাৎ অনাধিকার প্রবেশ করে। সেখানে অবস্থানরত পরিবহনের নিজস্ব কর্মী, ড্রাইভার ও স্টাফদের তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এতে প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা কর্মী ও ড্রাইভারদের মারধর করে স্থান থেকে তাড়িয়ে দেয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা রেডিও কলোনি চেকপয়েন্ট দিয়ে চলাচলকারী লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের প্রতিটি বাস থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে এ রুটে কোনো বাস চলতে দেওয়া হবে না এবং ড্রাইভার-হেলপারদের পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী রুট সুপারভাইজার মোঃ রিয়াজ মোর্শেদ বলেন, "আমরা নিয়ম মেনে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা জসিম উদ্দিন মোল্লা ও তার লোকজন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এসে আমাদের লোকজনকে মারধর করেছে এবং প্রতিটি বাস থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেছে। এছাড়াও
গত সোমবার (১৭ আগস্ট) একটি প্রাইভেট কার ইচ্ছেকৃতভাবে লাব্বাইক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৩৩৯) বাসের সঙ্গে ঘর্ষণ লাগানো হয়। পরদিন এই শ্রমিক নেতা পাকিজা এলাকায় আমাদের কয়েকটি বাস আটকে রেখে জোরপূর্বক ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি -বলেন তিনি।
এ বিষয়ে সাভারের পরিবহন খাতের সাধারণ কর্মী ও চালকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শ্রমিক দল নেতাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শ্রমিক দল নেতা মো: জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি কেন পরিবহন থেকে চাঁদা দাবি করিনি।
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, চাঁদাবাজের কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। চাঁদাবাজি যেই করবে তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সাভার পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, জেলা কমিটিসহ আমাদের যে অভিভাবক রয়েছে তাদের কাছে বিষয়টা উত্থাপন করব তারা আমাকে যেভাবে দিকনির্দেশনা দেবে আমি সেভাবেই ব্যবস্থা নিব।