স্টাফ রিপোর্টার : কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় হোটেল শিখা ইন-এ আগুন লেগে শিশুসহ অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সাভার উপজেলার আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগুনবাড়ি এলাকার প্রসাধনী ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু (৩৭) রয়েছে । তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়ানেমে এসেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার রাতে ব্যবসার উদ্দেশ্যে কলকাতা যান আহম্মেদ বাবু।
দীর্ঘ দিন ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় দুই বছর পরে কলকাতায় গিয়েছিলেন ব্যবসায়িক কাজে।
আহম্মেদ বাবুর পিতার নাম আদম আলী। পরিবারের চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট আহম্মেদ বাবু। তার স্ত্রী এবং রোজা নামে আট বছরের একটি কন্যা ও সোয়াদ নামে পাঁচ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
আমিন বাজারে এমএ হোসেন টাওয়ারে কিউট কসমেটিক্স নামে একটি প্রসাধনী বিক্রির দোকান রয়েছে।
বাবুর মেঝো ভাই মনির হোসেনের বলেন, ব্যবসায়িক কাজে ভারতে যাওয়ার আগে স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গিয়েছিলেন আহম্মেদ বাবু। কিন্তু কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগার পর আর বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আহম্মেদ বাবু ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
মরদেহের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তার পরিবার।
বাবুর বন্ধু ফয়সাল জানান, কসমেটিকসের দোকানের মালামাল কিনতে ভারতে গিয়েছিলেন আহম্মেদ বাবু। কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার কাছাকাছি মির্জা গালিব স্ট্রিটের তিনতলায় অবস্থিত শিখা ইন নামের আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন তিনি। সেখানে অবস্থানকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে হোটেলের ভেতরে আটকা পড়ে প্রাণ হারান বাবুসহ বেশ কয়েকজন।
তিনি বলেন, আজকে (বুধবার) দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানানো হয় নিহতের খবর এবং পরবর্তীতে নিহতের ছবি ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠালে পরিবারের পক্ষ থেকে ছবি দেখে শনাক্ত করেন যে ইনি আহম্মেদ বাবু।
বাবুর ভাইয়রা ভাই রাশেদ ইকবাল সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন, সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে যেন লাশটি দেশে স্বজনদের কাছে দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত; বুধবার রাত প্রায় ২টার দিকে নগরীর নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় হোটেল শিখা ইন-এ আগুন লেগে বাংলাদেশীসহ ৯জনের মৃত্যু হয়।
Leave a Reply