প্রতিদিন ধূমকেতু

আহসান হাবীব

মনা রে মনা কোথায় যাস?
বিলের ধারে কাটব ঘাস।
ঘাস কি হবে?
বেচব কাল,
চিকন সুতোর কিনব জাল।
জাল কি হবে?
নদীর বাঁকে
মাছ ধরব ঝাঁকে ঝাঁকে।
মাছ কি হবে?
বেচব হাটে,
কিনবো শাড়ি পাটে পাটে ।
বোনকে দেব পাটের শাড়ি ,
মাকে দেব রঙ্গিন হাঁড়ি।

ভূমিকা: আহসান হাবীবের “মনা রে মনা”

বাংলা কবিতার জগতে আহসান হাবীবের নাম এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর লেখা “মনা রে মনা” কবিতাটি ৯০-এর দশকের শিশুদের শৈশবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এই কবিতাটি শুধু ছড়ার সহজ-সরল বিন্যাসই নয়, বরং এতে ফুটে উঠেছে গ্রামীণ জীবনের এক প্রাণবন্ত চিত্র।

কবিতাটি ছোটদের জন্য লেখা হলেও, এর গভীরতা সবাইকে আকৃষ্ট করে। মনা নামের এক কিশোরের কল্পনা ও বাস্তব জীবনের সংযোগই এই কবিতার মূল প্রতিপাদ্য। কবিতার শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পদ্ধতির মাধ্যমে মনার চিন্তার প্রবাহকে চিত্রিত করা হয়েছে—সে ঘাস কাটবে, জাল কিনবে, মাছ ধরবে এবং অবশেষে তার অর্জিত উপার্জন দিয়ে পরিবারের জন্য কিছু করবে। এই সহজ অথচ অর্থবহ কাহিনির মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনের সংগ্রাম ও ভালোবাসা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে রচিত এই কবিতা ছোটদের মধ্যে পরিশ্রম, স্বপ্ন এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব বোঝাতে সাহায্য করে। আজও এটি অনেকের মনে শৈশবের স্মৃতিচারণ করিয়ে দেয়। বিশেষ করে ৯০-এর দশকের প্রজন্মের কাছে এটি শুধু একটি কবিতা নয়, বরং এক আবেগের নাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *